বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুর জেলাধীন বীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। সম্প্রতি এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলার ১১জন চেয়ারম্যান গণস্বাক্ষরে এমন অভিযোগ এনে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। জানা যায়, নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন বীরগঞ্জ উপজেলা যোগদানের পর থেকেই তিনি তার হীন চারিতার্থ করতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে লিপ্ত হন। এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়াসহ উপজেলার কাঙ্খিত উন্নয়ন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানগণ।

অভিযোগে আরও জানা যায় তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মিনহাজুল হকের নেতৃত্বে ৭/৮টি স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের স্ক্রাপ গোপন চুক্তির মাধ্যমে ২৫/৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে দেয় অথচ স্ক্রাপ গোলাপগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির কারণে ১,২০,০০০/- (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা রাজস্ব আদায় হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের একটি সরকারী বিল্ডিং ভেঙ্গে ইট পাচারকালে স্থানীয় জনতা হাতে-নাতে ধরে ফেলে এবং বীরগঞ্জ থানার ওসি নেতৃত্বে পুলিশ এসে পাচারকৃত মালামাল জব্দ করে। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মতে এসব মালামাল পাচার হলে সরকার ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব হারাতো। আর এই পাচারেও নির্বাহী কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে দাবি ইউপি চেয়ারম্যানদের। ঐ সূত্র মতে, নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নামে-বেনামে বিগত ২০১৮ অর্থ বৎসরে বরাদ্দকৃত প্রায় ২০/২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ঈদ-ঊল-ফিতর উপলক্ষ্যে ভিজিএফ এর ১১০ বস্তা চাউল গুটিকয়েক ভোগীকে বিলি দেখিয়ে ৫নং সুজালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন ওয়ারী বরাদ্দকৃত চাউল একক ক্ষমতায় নিজ বাসায় নিয়ে রেখে আত্মসাৎ করে। দফাদার ও মহল্লাদার নিয়োগে অবৈধভাবে ঘুষ লেনদেনপূর্বক হকদারের হক থেকে বঞ্চিত করেন। নিজে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ইট ভাটা, এনজিও, জনপ্রতিনিধি, বিসিআইসি ডিলার, মিল ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়।

একইভাবে চলমান মুজিব জন্মশত বার্ষিকীর অজুহাত দেখিয়ে ঐসব প্রতিষ্ঠানসহ হোটেল মালিকদের নিকট জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করায় দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। শীতকালীন সময়ে শীতবস্ত্র ক্রয়ের নামে এনজিও ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিকট হতে প্রতিবার মোটা অংকের চাঁদা আদায় ও আত্মসাৎ করা হয়। নানা দূর্নীতির ঘটনায় এলাকার সচেতন মানুষসহ আমরা জনপ্রতিনিধিগণ প্রতিবাদ করলে তিনি সকলকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়ার হুমকি দেন। একজন কাঠমিস্ত্রীকে আক্রোসমূলকভাবে মাছ চোর বানিয়ে অন্যায়ভাবে ১ বৎসরের সাজা দেয়ার ঘটনায় সচেতন মানুষ হতবাক হয়।

ঐ মামলার সার্টিফাইট কপি বেশ কিছুদিন আটক রেখে কথিত অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী’র নিকট ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে সার্টিফাইট কপি প্রাপ্তির পর জামিনে মুক্তি লাভ করে। আবেদনকারীগণের দাবি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এ নির্বাহী কর্মকর্তার আরও অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতি চিত্র বেরিয়ে আসবে। জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় যতদ্রুত সম্ভব এ সব দূর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। এটাই স্থানীয় চেয়ারম্যানগণের প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536