সরাইল  রবিবার ধর্মতীর্থ গণহত্যা দিবস

সরাইল  রবিবার ধর্মতীর্থ গণহত্যা দিবস

আমীরজাদা চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া॥
রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ‘ধর্মতীর্থ গণগত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে ধর্মতীর্থ এলাকায় বর্বর পাকিস্তানি সেনা, রাজাকারসহ তাদের এ দেশীয় সহযোগীরা উপজেলার চুন্টা ও কালীকচ্ছ ইউনিয়নের শতাধিক নারী-পুরুষকে একত্র করে নির্যাতন করে গণহত্যা করে। এটি ধর্মতীর্থ গণগত্যা নামে পরিচিত।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬অক্টোবর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় একদল মুক্তিযোদ্ধা মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উপজেলার কালীকচ্ছ ধর্মতীর্থ এলাকায় স্থানীয় রাজাকার প্রধান, সরাইল থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মুসলীমলীগ নেতা আবদুল মন্নাফ ঠাকুর ও তাঁর দোসর বর্বর পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা (ক্যাপ্টেন) এ রহমান খানসহ কয়েকজন পাকসেনাকে হত্যা করে। যুদ্ধকালীন সরাইল থানা মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার আবদুল্লাহ ভূইয়া বলেন, আবদুল মন্নাফ ঠাকুর নিহত হওয়ার পর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তার জামাতা (ঘরজামাই) ফয়েজুর রহমান ওপফে সেলুর বাপ। তখন সেলুর বাপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। ৬অক্টোবরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সেলুর বাপের নেতৃত্বে ১৮ অক্টোবর ধর্মতীর্থ এলাকায় গণহত্যা চালায় পাক সেনারা। ওই দিন শতাধিক নরনারীকে হত্যা করা হয়। এটি ধর্মতীর্থ গণগত্যা নামে পরিচিত। গত বছর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসন সরাইল উপজেলার সেই বধ্যভূমিটি সংরক্ষেণের জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। যাতে লেখা রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত স্থান। এই স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করা হইল। এটি সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ নৌঘাটে অবস্থিত। এখানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া ৪৬ জনের তালিকাযুক্ত একটি নামফলক আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536