কল্যাণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ জন মেম্বারের অনাস্থার সিদ্ধান্তহীনতায় জনপ্রতিনিধিদের সেবা থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নবাসী

কল্যাণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ জন মেম্বারের অনাস্থার সিদ্ধান্তহীনতায় জনপ্রতিনিধিদের সেবা থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নবাসী

স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে ৯ জন মেম্বারের দেয়া অনাস্থা দিয়েছেন দীর্ঘ ৭ মাস পূর্বে। এবিষয়টি সিদ্ধান্তহীনতার থাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেমনি তাদের ইউনিয়নবাসীকে সেবা দিতে পারছেন না,তেমনি জনপ্রতিনিধিদের সেবা নিতে পারছেন না ইউনিয়নবাসী।

জানা যায়- গত ১১ মে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন নির্বাচিত মেম্বারের মধ্যে ৯ জন মেম্বার উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৮টি অভিযোগ উল্লেখ করে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে অনাস্থা প্রদান করেন। উক্ত অনাস্থাপত্রের বরাতে ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়, তা হলো- (১) হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ চেয়ারম্যান নিজে ছাপিয়ে এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন এবং জনগণকে ভূয়া হোল্ডিং প্লেট দিয়ে টাকা আদায় করে তাও আত্মসাৎ করেন। (২) উন্নয়ন প্রকল্প যেমন- টি.আর, কাবিখা, কাবিটা, ইজিপিপি ইত্যাদি প্রকল্প গ্রহণের সময় কোন প্রকার মিটিং বা রেজুলেশন না করে নিজের পছন্দমতো প্রকল্প গ্রহণ করেন, যা আইনের পরিপন্থী। (৩) জানুয়ারি-২০২০ থেকে একটিও মাসিক মিটিং করা হয়নি। (৪) গত ১৫ই এপ্রিল ২০২০ রাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ০১ মে:টন চাউল আত্মসাৎ করতে গেলে জনতার হাতে ধরা পড়েন। যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে রাখেন। এখবর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। (৫) সরকারি কোনো প্রকার চিঠিপত্র সম্পর্কে ইউপি সদস্যগণকে অবহিত না করা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্যগণকে কোনোরূপ মূল্যায়ন না করা ।(৬) অসহায়-দুস্থ মহিলাদের জন্য সরকারি ভিজিডি কার্ডের ১৫ জন সুবিধাভোগীর চাল প্রায় আট মাস যাবৎ আত্মসাৎ করে আসছেন।(৭) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ১টি টিনের ঘর ও ১টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর অসহায়দের না দিয়ে চেয়ারম্যানের নিজ মালিকানাধীন জমিতে উত্তোলন করে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয় এবং জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। (৮) বিভিন্ন সময়ে ইউপি সদস্যগণের বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করে তাদেরকে জনসেবা থেকে দুরে রাখা ।
২০২০ইং সালের জানুয়ারী মাস থেকে অদ্য পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদে একটিও মাসিক সভা না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতির কারণেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাঁরা এ অনাস্হা দেন বলে জানান।
এ অনাস্থা পত্রটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে দেন উক্ত ৯ ইউপি সদস্য। যার অনুলিপি যথাক্রমে- মাননীয় সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা, মাননীয় সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ঢাকা, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম,
পরিচালক , স্থানীয় সরকার, বিভাগ, চট্টগ্রাম, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার শাখা, চাঁদপুর-কে প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক বিষয়টি আমলে নিয়ে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মকবুল হোসেনকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন। দায়িত্বভার গ্রহণ করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ২৮/০৬/২০২০খ্রি: তারিখের স্মারক নং ৩৩.০১.১৩২২.০০০.০৪.০০১.২০.২৪১ মূলে উক্ত অনাস্থা ও অভিযোগ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী কে ১০( দশ) দিনের মধ্যে
উল্লেখিত অভিযোগ বিষয়ে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। অতঃপর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বিগত ০৩/০৮/২০২০খ্রি: তারিখের ৩৩.০১.১৩২২.০০০.০৪.০০১.২০.৩০০নং স্মারকের পত্র মূলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা ও উল্লেখিত অভিযোগের তদন্তকাজে সহযোগিতার জন্য অনাস্থা উত্থাপনকারী ৯ মেম্বারকে সকল প্রমাণপত্রসহ ৬ আগষ্ট সকাল ১০ টায় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন, যার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সকলকে দিয়ে অবহিত করা হয়। এরপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো অধিকতর তদন্ত করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা পান। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্হানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন ২০১০ এর ধারা (৩৯)(২) অনুযায়ী উপজেলা প্রানী সম্পদ কমকর্তা ও অনাস্থার বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখের ৩৩.০১.৩৩২২.০০০.০৪.০০১.২০-৪২৬নং স্মারকের পত্র মূলে উক্ত ইউনিয়নের নির্বাচিত সকল মেম্বারকে চিঠি দেন, যার অবগতির জন্য চেয়ারম্যানকেও অনুলিপি প্রদান করা হয়। উক্ত চিঠিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্হানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ)(সংশোধন) আইন ২০১০ এর ধারা ৩৯ অনুযায়ী সকল নির্বাচিত মেম্বারগণকে ৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখ সকাল ১০ টায় ইউনিয়ন পরিষদে সভায় উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ভোট প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। উক্ত চিঠির আলোকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাঃ মকবুল হোসেনের উপস্থিতিতে ০৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখ সকাল ১০ টায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ বাকি উল্ল্যাহ তালুকদারের সভাপতিত্বে ঐ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ইউনিয়নের নির্বাচিত মেম্বারগণ উপস্থিত হয়ে আলোচনা শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং অতঃপর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ভোটের ফলাফলে ৯জন মেম্বার অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন এবং ৩ জন মেম্বার ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকেন। ফলে স্হানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন আইন ২০১০ অনুযায়ী অনাস্থা কার্যকর হয়ে যায়। এদিকে অনাস্থা কার্যকর হচ্ছে, বিষয়টি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে এই ঘটনাকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছেন ইউনিয়নের ৯ জন মেম্বার। উল্লেখ্য যে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটওয়ারী কোনো প্রকার অভিযোগ উত্থাপন না করলেও সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অনাস্থা প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে চেয়ারম্যান তাঁর স্বার্থ হাসিলের জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা ।
তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইউনিয়ন বাসীর স্বার্থে সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের এ বিরাজমাব সমস্যাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডাঃ দীপু মনি এমপি মহোদয় ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ইউনিয়নবাসী ও জনপ্রতিনিধিগণ।

এদিকে অনাস্থা বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্ত কমকর্তা ও চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রানী সম্পদ কমকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় যে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তা আমি দেশের আইন অনুযায়ী যথাযথ ভাবে পালন করে সংশ্লিষ্ট উধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছি।
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তদন্তের বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এগুলো মিথ্যা এবং অপ্রপ্রচার।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন তাই এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। তবে হ্যাঁ শীঘ্রই এবিষয়ে জানতে পারবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536